ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

শেয়ার বিক্রির ঘোষণার পরে মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য

ভয়াবহ শীতে মানুষ জমে গেলেও আইসক্রীম বিক্রি বেড়েছে লাভেলোর

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১০:৫৬:৩৮
ভয়াবহ শীতে মানুষ জমে গেলেও আইসক্রীম বিক্রি বেড়েছে লাভেলোর

শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে লাভেলো আইসক্রীমের। এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। রেগুলেটর থেকে শুরু করে সবাই জানে এটা। তারপরেও রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন এখনো কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজি নিয়ে তদন্ত শুরু করেনি। অথচ তিনি শাস্তি প্রদানে এরইমধ্যে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যিনি বিভিন্ন কোম্পানির অনিয়মে কয়েক হাজার কোটি টাকার জরিমানা করেছেন। একইভাবে লাভেলোর শেয়ার কারসাজি নিয়ে তদন্ত করলেও অনেক শাস্তি প্রদানের মতো উপাদানও রয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির এক কমিশনার স্টক সংবাদকে বলেন, যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, অন্যসবার মতো লাভেলো আইসক্রীমকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। আপনারা গণমাধ্যমে অনিয়ম তুলে ধরেন, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি লাভেলো আইসক্রিমের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৯.৮০ টাকা। সেখান থেকে দফায় দফায় দাম বেড়ে সাড়ে ৫ মাসের ব্যবধানে ১৫ জুলাই ১০৬.৪০ টাকায় উঠে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের দাম বাড়ে ৭৬.৬০ টাকা বা ২৫৭ শতাংশ। তবে মাকসুদ কমিশনের দায়িত্ব গ্রহনের পরে শেয়ারবাজারে বড় পতনে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে ১৫ জানুয়ারি নেমে এসেছে ৭১.২০ টাকায়। তবে এই দর বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোন কারন খুজে পায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

এই শেয়ারটিতে লাভেলোর এমডি ইকরামুল হকসহ অনেকের সক্রিয় কারসাজি রয়েছে। যারা এখনো ফায়দা হাসিল করে নিতে পারেননি। তাই ইকরামুলের কারসাজি ও প্রতারণা থেমে নেই। যে ভয়াবহ শীতে মানুষ যখন জমে যাচ্ছে, তখন আইসক্রীম বিক্রি বেড়ে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতারক ইকরামুল চক্র জানিয়েছে, লাভেলো আইসক্রীমের চলতি অর্থবছরের ৬ মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) ব্যবসায় ৫৪ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে। কোম্পানিটির ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ২.১৩ টাকা। যার পরিমাণ এর আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ১.৩৮ টাকা। এ হিসাবে মুনাফা বেড়েছে ০.৭৫ টাকা বা ৫৪ শতাংশ।

এদিকে কোম্পানিটির ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১.১৬ টাকা। যার পরিমাণ এর আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ০.৫৬ টাকা। এ হিসাবে মুনাফা বেড়েছে ০.৬০ টাকা বা ১০৭ শতাংশ।

অথচ দেশে ওইসময় চলেছে ভয়াবহ শীত। যাতে কেউ আইসক্রীম খাওয়ার কল্পনাও করেনি। যাতে আইসক্রীম কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু প্রতারক ইকরামুল চক্র শেয়ার কারসাজিতে ফায়দা হাসিলের অনবরত চেষ্টার অংশ হিসেবে ওই শীতের মধ্যেও আইসক্রীম বিক্রি বাড়িয়ে দেখিয়েছে।

যার পেছনে রয়েছে ইকরামুলের ভয়াবহ প্রতারণার নীল নকশা। প্রকৃত লোকসানের তথ্য গোপন করে এই ইকরামুল কৃত্রিম মুনাফা দেখানোর আগে শেয়ার বিক্রির ঘোষনা দিয়েছে। তার মালিকানাধীন তৌফিকা ইঞ্জিনিয়ারের ৫ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষনা দিয়েছে। যার পরে আসল কৃত্রিম মুনাফার তথ্য।

এর আগে এ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কারসাজির মাধ্যমে বাড়ানো ওই শেয়ারটির দর ধরে রাখার জন্য কোম্পানিটির মুনাফা ও লভ্যাংশ বাড়ায়। ইকরামুল চক্র ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির পর্ষদ আগের অর্থবছরের ১০% থেকে বাড়িয়ে ২০% লভ্যাংশ দেয়। আর শেয়ার কারসাজির পর থেকে প্রতিনিয়ত কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়ে আসছে। অথচ কর্মীদের বেতনাদি দিতে পারেনি ঠিকমতো।

২০২১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ১.৪৩ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আর লভ্যাংশ ছিল ১২ শতাংশের মধ্যে। এসত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১.৪৩ টাকা ইপিএসের বিপরীতে কোম্পানিটির পর্ষদ শেয়ারপ্রতি ২ টাকা (১ টাকা নগদ ও ১ টাকা বোনাস) লভ্যাংশ দেয়। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির ১২.১৮ কোটি টাকার নিট মুনাফা হলেও লভ্যাংশ ঘোষণা করে ১৭ কোটি টাকার। এর অন্যতম কারন কোম্পানিটির কারসাজির মাধ্যমে লাভেলোর ৩০ টাকার শেয়ারটিকে যে ১০০ টাকায় তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা ধরে রাখার চেষ্টা করা।

এদিকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শেয়ার কারসাজির মতো অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে লভ্যাংশ দ্বিগুণ করলেও তা নিয়ে আছে প্রতারণা। লভ্যাংশ ঘোষণার পরে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলেও সব শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেননি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এজন্য কোম্পানিটির কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার বিএসইসি, ডিএসই প্রধান উপদেস্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে