ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু সময়ের দাবি

২০২৬ জুলাই ০৫ ২০:৩৬:৪২
কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু সময়ের দাবি

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক করতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। শিগগিরই ফিউচারস উইথ ক্যাশ সেটেলমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো এই এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এর প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

রবিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। সিএসইর উদ্যোগে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কমোডিটি ডেরিভেটিভস বিষয়ক ‘ষষ্ঠ সার্টিফিকেট ট্রেনিং কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এতে সিএসই ও ডিএসইর ট্রেক হোল্ডারসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএসইসির কমিশনার মো. নাফিজ আল তারিক প্রশিক্ষণ কোর্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দেশে প্রথমবারের মতো কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠায় সিএসইর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান বাজার কাঠামোর যেকোনো পর্যায় থেকেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। সিএসই ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে এবং বাকি কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে বিএসইসি নীতিগতভাবে সম্মত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ পুরো বাজার বুঝে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট না হলেও এটি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। তাই নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে নতুন এই বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ইকুইটি মার্কেটকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের অন্যান্য সেগমেন্ট দ্রুত চালু করা জরুরি। কমোডিটি ডেরিভেটিভস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইকুইটি ডেরিভেটিভস চালুর জন্যও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। বর্তমানে বাজারের ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং ট্রেডিং টার্মিনাল পরিচালনার জন্য মার্কেট প্রফেশনালদের দক্ষ করে তোলার কাজ চলছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো কাঠামো লাইভ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সম্ভাবনা, সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন এবং পুঁজিবাজারের এই নতুন দিগন্তে যুক্ত হতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সিএসই ও বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে