ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

অনেক অপকর্মের হোতা রাশেদ মাকসুদের দেশ পলায়ণের গুঞ্জন

২০২৬ জুন ০৫ ০৮:৩৩:০০
অনেক অপকর্মের হোতা রাশেদ মাকসুদের দেশ পলায়ণের গুঞ্জন

যোগ্যতা ছাড়া সাবেক অর্থ উপদেষ্টার আত্মীয়তার কারনে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। যিনি দায়িত্ব পালনেকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং শেয়ারবাজারকে নিয়ে গেছেন অতল গহ্বরে। যার বিরুদ্ধে রয়েছে অনেক অভিযোগ। তবে তার ক্ষমতার কারনে এতোদিন সবাই ভয়ে চুপ ছিল। তবে তিনি এখন চেয়ারে নেই। তাই অনেকেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অবস্থায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা উঠেছে অভিযোগকারী পক্ষের মধ্যে। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থায় গুরুতর দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জমা পড়লেও এখনো কার্যকর কোনো নিষেধাজ্ঞা বা ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (BCMIA) গত এপ্রিল মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ জমা দেয়, যেখানে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার ধ্বংস, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা, সরকারি অর্থের অপচয় এবং ব্যাংক-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগপত্রে তার ও পরিবারের সম্পদের উৎস তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।

বাজার পতন ও আস্থার সংকটের অভিযোগ :

অভিযোগপত্র ও সংযুক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে যায়। দলিল অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর ডিএসই সূচকের বড় পতন হয়। তবে তার বিদায়ের আভাসে শেষ ৯ কার্যদিবস উত্থানে রয়েছে। একই সময়ে কোনো আইপিও, আরপিও বা এসএমই পাবলিক ইস্যু অনুমোদন না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তদন্ত এড়ানোর আশঙ্কা :

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এর আগেও বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে দেশ ছাড়ার নজির রয়েছে। সে কারণেই তারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে খন্দকার রাশেদ মাকসুদও বিদেশে চলে যেতে পারেন। অভিযোগকারীরা তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ, পাসপোর্ট জব্দ এবং জরুরি ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

বিএসইসির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা :

নথিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান কমিশনের সময়ে বিএসইসির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, মামলা, সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কের কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে। এসব ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সতর্ক অবস্থানে সংশ্লিষ্ট মহল :

যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক মহল মনে করছে—অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, “এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়; এটি দেশের শেয়ারবাজার ও লাখো বিনিয়োগকারীর স্বার্থের প্রশ্ন। তাই সম্ভাব্য পলায়ন ঠেকাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।”

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে