ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

হিসাবে ২,৫৬০ কোটি, নিরীক্ষায় উঠে এলো ২৪ হাজার কোটি টাকার লোকসান

২০২৬ আগস্ট ০৯ ০৮:১৮:৫৯
হিসাবে ২,৫৬০ কোটি, নিরীক্ষায় উঠে এলো ২৪ হাজার কোটি টাকার লোকসান

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আইএফআইসি ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের আমানতের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ করেছে সালমান এফ রহমান চক্র। যেসব ঋণ এখন খেলাপি হয়ে গেছে। যাতে আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় গ্রাহকদের আমানত ঝুঁকিতে পড়েছে।

দেখা গেছে, ঋণের নামে টাকা আত্মসাতের কারনে ব্যাংকটির ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা টাকা বা শেয়ারপ্রতি (১২৪) টাকা লোকসান হয়েছে। তবে এ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই বছরের ব্যবসায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১৩ টাকা লোকসান দেখিয়েছে।

ব্যাংকটির ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে গ্রাহকদের স্বল্পমেয়াদি আমানতকে ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দিয়ে থাকে। এটা খুবই বাজে সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এর উপরে আবার রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংক দখল করে সালমান এফ রহমানদের মতো চক্র অস্তিত্বহীন ও অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার মাধ্যমে গ্রাহকদের আমানতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। এদের কারনে এখন অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত দিতে পারছে না। যাতে আমানতকারীরা এখন অসহায়ের মতো ঘুরছে।

আইএফআইসি ব্যাংকের ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি ১৩.৩২ টাকা করে নিট লোকসান দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৫৬০ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর নিট সম্পদ ৯৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি নিট ৪.৯৬ টাকা সম্পদ দেখানো হয়েছে।

তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ ব্যাংকটির বিনিয়োগের বিপরীতে ২০২৫ সালে ২২ হাজার ১০ কোটি ৯৫ টাকা প্রভিশন বা সঞ্চিতি দরকার ছিল। তবে এ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সঞ্চিতি করেছে ৭৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে সঞ্চিতি ঘাটতি ২১ হাজার ২১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। এই সঞ্চিতি গঠন না করায় আর্থিক বিবরণীতে অতিরঞ্জিত সম্পদ, মুনাফা ও ইক্যুইটি দেখানো হয়েছে এবং দায় কম দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তীতে এই সঞ্চিতি গঠনের সুযোগ দিলেও নিরীক্ষক ও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ছাড় আন্তর্জাতিক হিসাব মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ ভবিষ্যতে এই বিপুল অঙ্কের সঞ্চিতি একসঙ্গেই গঠন করতে হবে, যার প্রকৃত প্রভাব বর্তমান আর্থিক বিবরণীতে না দেখানোয় বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

হিসাব মান অনুযায়ি ব্যাংকটির ২০২৫ সালেই আরও ২১ হাজার ২১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা সঞ্চিতি গঠন করা দরকার ছিল। যা করা হলে ব্যাংকটির ওই বছরে লোকসান বেড়ে ২৩ হাজার ৭৭৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি (১২৪) টাকা হয়।

এদিকে ওই প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি ২০২৫ সালে গঠন করা হলে ব্যাংকটির নিট সম্পদ ঋণাত্মক ২০ হাজার ২৬৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় বা শেয়ারপ্রতি সম্পদ ৪.৯৬ টাকা থেকে কমে ঋণাত্মক (১০৫) টাকায় নেমে আসতো।

এসব বিষয়ে জানতে গত ২৪ জুন থেকে ব্যাংকটির সচিব মো. মোকাম্মেল হক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগ করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে কয়েক দফায় সময় নিলেও জানাননি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আইএফআইসি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৯২২ কোটি ৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৭.২৫ শতাংশ। কোম্পানিটির গত ১ আগস্ট শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪.৯০ টাকায়।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে