খেলাপি ঋণ বাড়লে মূলধন সংকট আরও গভীর হবে
দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি। খেলাপি ঋণ ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও পুনঃতফসিল করা ঋণের একটি অংশ আবার খেলাপি হতে পারে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়ন হলে এসব ঋণের বিপরীতে বাড়তি প্রভিশন রাখতে হতে পারে। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু নতুন করে মূলধন জোগান দিয়ে দুর্বল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
শনিবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে খেলাপি ঋণ
মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। এখন তা ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আগে ধারণা করা হয়েছিল, দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদসহ খেলাপি ঋণ প্রায় ২৫ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে তা ৩২ শতাংশের বেশি হয়েছে।
তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নীতিগত সহায়তায় পুনঃতফসিল করা ঋণের একটি অংশ আবার খেলাপি হলে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে।
প্রকৃত ক্ষতি বের হলে বাড়বে প্রভিশন
আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণের প্রকৃত ঝুঁকি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তখন অনেক ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন হতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো যখন ঋণের বিপরীতে জামানত খুঁজতে শুরু করবে, তখন সেই সম্পদের প্রকৃত মূল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাহবুবুর রহমানের ভাষায়, ব্যাংকের প্রকৃত ক্ষতি নির্ধারণ না করে শুধু মূলধন দিয়ে সংকটের সমাধান করা যাবে না।
তিনি বলেন, কোনো ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা হলে এবং এর ৩০ শতাংশ খেলাপি হলে ১৮ হাজার কোটি টাকা কার্যত আটকে যায়। এই অর্থ ফেরত না এলে আমানতকারীদের দায় পরিশোধেও সমস্যা তৈরি হয়।
‘আজকে ৫০ হাজার কোটি টাকা দিলাম, কালকে ব্যাংক ঠিক হয়ে যাবে—এমন কোনো বিষয় নেই।’
ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমছে
ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রিক্যারিয়াস সিচুয়েশন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ব্যাংকেরই এখন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা নেই। মূলধন পর্যাপ্ততা দুর্বল এবং সব ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতিও এক নয়।
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর ৫৭টি ব্যাংক কার্যক্রম চালালেও কতগুলো ব্যাংক এখন পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঋণ কমিয়ে সরকারি সিকিউরিটিতে ঝোঁক
ব্যাংকের মূল ব্যবসা ঋণ দেওয়া ও আমানত সংগ্রহ করা হলেও অনেক ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম কমে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
তার মতে, এতে কোনো কোনো ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি মুনাফা বাড়তে পারে। কিন্তু মূল ব্যবসা থেকে আয় কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।
‘ব্যাংকের কোর ব্যবসা টাকা দেওয়া এবং টাকা নেওয়া। তাই নিট ইন্টারেস্ট ইনকাম কমে যাওয়া ব্যাংক ও পুরো ব্যাংকিং শিল্পের জন্য অশুভ সংকেত।’
সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ থেকে আয় কমে গেলে ব্যাংকগুলোকে মূল ব্যবসা থেকে আয় বাড়াতে হবে। এ জন্য কম খরচে আমানত সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
দুর্বল ব্যাংক একীভূত করলেই সমাধান নয়
পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংক একীভূত করলে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তার মতে, একীভূতকরণের মাধ্যমে শাখা, জনবল ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত। কিন্তু একীভূত হওয়ার পরও যদি একই ধরনের কাঠামো বহাল থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।
সংকট এখন পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার
ব্যাংকিং খাতের সমস্যা কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একটি ব্যাংকে সমস্যা হলে তার প্রভাব অন্য ব্যাংকেও পড়তে পারে। তাই পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিয়েই সংস্কার করতে হবে।
তার মতে, ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ও মূলধনের প্রকৃত অবস্থা আগে নির্ধারণ করা জরুরি।
সুশাসন ছাড়া অর্থ ঢেলে লাভ নেই
ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে সুশাসনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, ব্যালান্সশিটের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ, যথাযথ প্রভিশন রাখা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়ন এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা, ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং অনিয়মের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে না পারলে সংস্কারের উদ্যোগ টেকসই হবে না।
তার মতে, ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো এখন চিহ্নিত। এখন প্রয়োজন প্রকৃত ক্ষতি নির্ধারণ, লক্ষ্যভিত্তিক পুনর্গঠন এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা।
পাঠকের মতামত:
- দর পতনের শীর্ষে সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে হা-ওয়েল টেক্সটাইল
- ব্লক মার্কেটে ৩১ কোটি টাকার লেনদেন
- এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডসে লভ্যাংশ ঘোষণা
- মেঘনা পেট্রোলিয়ামের লভ্যাংশ ঘোষণা
- শেয়ারবাজারে পতন
- আল-আরাফাহ ব্যাংকে খেলাপি বিনিয়োগের পাহাড়
- বিএসইসির অনুসন্ধানে আজাদ পাটওয়ারীর সন্দেহজনক লেনদেন
- শেয়ারবাজারে পতন
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস
- ব্লক মার্কেটে ৮ কোটি টাকার লেনদেন
- ইভিন্স টেক্সটাইলের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- উৎপাদনে লোকসান, বিনিয়োগ-ভাড়ার আয়ে টিকে জিকিউ বলপেন
- ৯ মাসে ইউনিটপ্রতি মুনাফা বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান
- পাঁচ মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রেমিট্যান্স
- ডিএসইর অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনে লাগবে না স্কিম সংশোধন
- তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে পাওনা-অগ্রিমে আটকা ৪২ কোটি টাকা
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে মতিন স্পিনিং
- ব্লক মার্কেটে ২৩ কোটি টাকার লেনদেন
- শেয়ারবাজারে পতন
- মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- ১৬ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা, লোকসানে ৬টি
- রয়্যালটি চুক্তি পরিবর্তন করল রেকিট বেনকিজার
- ১১ ব্যাংকের মধ্যে ৬টির ইপিএস ঋণাত্মক
- তিন বছরে ২৪২% রিটার্ন
- জিয়োর শেয়ারে দুই দিনে ২৭ শতাংশের বেশি মুনাফা, চাঙা ভারতীয় বাজার
- শাইনপুকুর সিরামিকসের ‘নো’ ডিভিডেন্ড
- এসবিএসি ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে ৩৩ শতাংশ
- বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ১১১ কোটি টাকা
- গত সপ্তাহে ব্লক মার্কেটে ১৮০ কোটি টাকার লেনদেন
- সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে মীর আখতার
- সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড
- মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা নিয়ে চাপের মুখে বিএসইসি
- বিএটিবিসির মুনাফা কমেছে
- জেনেক্স ইনফোসিসের লভ্যাংশ ঘোষণা
- ওয়াটা কেমিক্যালের লভ্যাংশ ঘোষণা
- মুন্নু সিরামিকসের ‘নো’ ডিভিডেন্ড
- জিবিবি পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা
- এম.এল ডাইংয়ের লভ্যাংশ ঘোষণা
- মুন্নু অ্যাগ্রোর ‘নো’ ডিভিডেন্ড
- সুদের ওপর কর্মকর্তাদের ভাগ
- ক্যাল ইনভেস্টমেন্টসের দুই বিও হিসাব তদন্তে বিএসইসি
- এমজেএল বাংলাদেশের লভ্যাংশ ঘোষনা
- তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের ১৩% লভ্যাংশ ঘোষনা
- ওরিজা অ্যাগ্রোর লভ্যাংশ ঘোষনা
- এডিএন টেলিকমের লভ্যাংশ ঘোষনা
- ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ‘নো’ ডিভিডেন্ড
- বিডিকম অনলাইনের লভ্যাংশ ঘোষনা
- ইফাদ অটোজের লভ্যাংশ ঘোষনা
- আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ১০% লভ্যাংশ ঘোষনা
- রানার অটোর লভ্যাংশ ঘোষণা
- সিলকো ফার্মার লভ্যাংশ ঘোষনা
- এডভেন্ট ফার্মার লভ্যাংশ ঘোষনা
- মুন্নু ফেব্রিক্সের লভ্যাংশ ঘোষনা
- সিঙ্গার বাংলাদেশের লোকসান বেড়েছে
- মালেক স্পিনিংয়ের মুনাফা আছে, লভ্যাংশ নাই
- তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের লভ্যাংশ ঘোষনা
- কপারটেকের লভ্যাংশ ঘোষণা
- মূল বিমা ব্যবসার মুনাফা কমেছে ৭৪%, ঝুঁকিতে এফডিআরের বড় অংশ
- ব্লক মার্কেটে ২৯ কোটি টাকার লেনদেন
- প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- ২৩ কোটি টাকার লভ্যাংশ পাচ্ছে খুলনা পাওয়ার
- দূর্বল ব্যবসার জিপিএইচ ইস্পাতের পিছুটান
- লভ্যাংশ দেবে না মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ
- সোনালী লাইফের ৯ মাসের উদ্বৃত্ত কমেছে ৬৭ শতাংশ
- স্কয়ার টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষনা
- মাইডাস ফাইন্যান্সের লোকসান বেড়েছে
- ব্লক মার্কেটে ৯ কোটি টাকার লেনদেন
- ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- ইউনাইটেড পাওয়ারের সাবসিডিয়ারির লভ্যাংশ ঘোষণা
- বিজিআইসির ইপিএস বেড়েছে ১ পয়সা
- ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বেড়েছে
- সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের লভ্যাংশ ঘোষণা
- শমরিতা হসপিটালের লভ্যাংশ ঘোষনা
- আইপিওতে আসার আগে ২২৬% বোনাস : শেয়ার ইস্যু নিয়ে আছে খামখেয়ালিপনা
- শিবলী ও দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষায় আদালতের দারস্থ রাশেদ মাকসুদ
- বেস্ট হোল্ডিংসের প্রতি স্কয়ার ফিট নির্মাণে ব্যয় ১৮৫০১ টাকা : সী পার্লের হয়েছে ৪৭১৫ টাকা
- মার্জিনে ঢুকছে বেস্ট হোল্ডিংস
- অনিয়ম সত্ত্বেও শাস্তির পরিবর্তে বেস্ট হোল্ডিংসকে আরও অনৈতিক সুবিধা প্রদান
- তালিকাভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে সেরা হলেও শেয়ার দরে পিছিয়ে
- এবার বেস্ট হোল্ডিংসের আন্ডারসাবস্ক্রাইব এড়াতে বিএসইসির অনৈতিক সুবিধা
- সাড়ে ১২শ কোটি টাকা ঋণী এসএস স্টিলের চেয়ারম্যানের শত কোটি টাকার বিয়ের অনুষ্ঠান
- বিনিয়োগকারীদের নামে সংগঠন করে চাঁদাবাজি : ধরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ
- রবিবার মার্জিনে ঢুকছে বেস্ট হোল্ডিংস
- অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও অনুমোদন
- শেয়ারবাজারের স্বৈরাচার শিবলীর নানা অপকর্ম
- মেধার জন্য ছাত্রদের আন্দোলন : মেধাবী তাড়াতে নাহিদের ষড়যন্ত্র
- শেয়ারবাজারে আসার আগে ১ কোটি টাকার কোম্পানি হয়ে গেল ২৩ কোটি
- টপটেন লুজারের ৮০ শতাংশই বীমা কোম্পানি














