ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

লোগো নকল করে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৮:০৫:২৮
লোগো নকল করে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও পরিচিত ব্রোকারেজ হাউসের নাম-লোগো ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে বিভিন্ন চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়, নকল ওয়েবসাইট, কৃত্রিম ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের বিশ্বস্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাসওয়ার্ড, পিন, এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চুরির ঝুঁকি।

এ পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ডিজিটাল প্রতারণা শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএসইসির কমিশনার নাহিদ মাহতাব। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, নকল কণ্ঠস্বর ও উন্নত প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

নাহিদ মাহতাব বলেন, প্রযুক্তির কারণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক সহজ হয়েছে। এখন ঘরে বসেই বাজারের তথ্য দেখা এবং অনলাইনে লেনদেন করা যায়। কিন্তু একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারকেরা দ্রুত ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপ এবং চ্যানেলে এসব প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চলছে।

তিনি বলেন, প্রতারকেরা বিএসইসি, ডিএসই কিংবা পরিচিত ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে। পাশাপাশি ভুয়া ফোনকল, খুদে বার্তা ও লিংকের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পাসওয়ার্ড, পিন ও ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিও হিসাবের তথ্য হাতিয়ে নিয়েও প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তথ্য থেকে প্রভাব, প্রভাব থেকে কারসাজি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক বিষয়বস্তু নির্মাতাদের প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেন বিএসইসি কমিশনার। তাঁর মতে, এসব মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই প্রভাব যখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন তা কারসাজির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, আর্থিক বিষয়বস্তু নির্মাতাদের অনেকে অনুমোদিত বিনিয়োগ পরামর্শের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছেন। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য পরামর্শ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

একটি লেনদেন নয় পুরো চিত্র দেখতে হবে

বাজার কারসাজি শনাক্ত করতে শুধু পৃথক লেনদেনের ওপর নির্ভর না করে ধারাবাহিক লেনদেনের ধরন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্পর্ক এবং বাজারে তার সামগ্রিক প্রভাব বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন নাহিদ মাহতাব।

তিনি বলেন, কোনো একটি লেনদেন আলাদাভাবে বৈধ মনে হলেও ধারাবাহিক লেনদেনের মধ্যে কারসাজির উদ্দেশ্য প্রকাশ পেতে পারে। তাই শুধু শেয়ারের দামের ওঠানামা নয়, লেনদেনের পেছনের উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখতে হবে। তবে সক্রিয়ভাবে লেনদেন করা নিজে অপরাধ নয়; প্রাসঙ্গিক প্রমাণ ও আইনগত উপাদানের ভিত্তিতেই কারসাজি বা প্রতারণা নির্ধারণ করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় শনাক্ত হবে সন্দেহজনক লেনদেন

শেয়ারবাজারের নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত তথ্য বিশ্লেষণপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন বিএসইসি কমিশনার। তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তি সন্দেহজনক লেনদেনের ধরন শনাক্ত করে সতর্কসংকেত দিতে পারে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবিবেচনা এবং যথাযথ পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইনগতভাবে উপযুক্ত ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে বাজারের নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয় করতে হবে। এতে অনলাইনে ছড়ানো সন্দেহজনক প্রচারণা এবং বাজারের লেনদেনের মধ্যে যোগসূত্র অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আর্থিক জ্ঞান বাড়ানো, নজরদারি জোরদার এবং আইন প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নাহিদ মাহতাব বলেন, শেয়ারবাজারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ শুধু মূলধন নয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থাও। বাজারের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ওপর এই আস্থা নির্ভর করে। তা রক্ষা করা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী—সবার দায়িত্ব।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে