ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ডমিনেজ স্টিলের আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ০৯:৩৬:১৪
ডমিনেজ স্টিলের আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ

তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ ব্যবহারে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত বিষয় অধিকতর তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির পরিদর্শন ও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ‘সিএসডি ডমিনেজ-৩’ নামে একটি ড্রেজার কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, আইপিওর অর্থ ব্যবহারের খাত পরিবর্তনের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত তথ্য গোপন করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রক্সি ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালে ড্রেজারটি কেনার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছরেও এটি থেকে কোনো ব্যবসায়িক আয় হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কোম্পানির নথিতে ড্রেজারটি তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুন্দরবন শিপ বিল্ডার্সের নাম উল্লেখ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি বিএসইসিকে জানিয়েছে, তারা ওই ড্রেজার তৈরি করেনি। এতে ডমিনেজ স্টিলের দেওয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ছাড়া সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশে থাকা কোম্পানিটির দুটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারখানার শেড সম্প্রসারণের নির্মাণব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়ে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টিও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইপিওর অর্থ ব্যবহারের নিরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেমস অ্যান্ড আরের হিসাবরক্ষক ফৌজিয়া হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি এফআরসিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

অন্যদিকে, তদন্তে উঠে আসা মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত বিষয় অধিকতর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব অনিয়মের দায়ে এরই মধ্যে ডমিনেজ স্টিলের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পরিচালক সুজিত সাহা, রকিবুল ইসলাম ও আবুল কালাম ভূঁইয়াকে ১ কোটি টাকা করে মোট ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।

এ ছাড়া কোম্পানিটির সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিল্লুর রহমান এবং সাবেক কোম্পানি সচিব মো. জামির হোসেন চৌধুরীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে