ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডোমিনেজ স্টিলে ৫.১০ কোটি টাকা জরিমানা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ০৮:৩২:০১
ডোমিনেজ স্টিলে ৫.১০ কোটি টাকা জরিমানা

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগে ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেডের পাঁচ পরিচালক ও দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাঁদের মোট ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির পরিদর্শন ও তদন্তে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যবহারে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ছাড়া আইপিওর অর্থে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেজার কেনা, ড্রেজারটির প্রস্তুতকারক ও মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া, কারখানা বন্ধের তথ্য গোপন এবং শেড সম্প্রসারণের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

এসব অনিয়মের দায়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পরিচালক সুজিত সাহা, পরিচালক রকিবুল ইসলাম ও পরিচালক আবুল কালাম ভূঁইয়াকে এক কোটি টাকা করে জরিমানা করেছে বিএসইসি। এ ছাড়া সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিল্লুর রহমান এবং সাবেক কোম্পানি সচিব মো. জামির হোসেন চৌধুরীকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে।

জাল স্বাক্ষরে অনুমোদনের চেষ্টা

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোমিনেজ স্টিল ২০২০ সালে আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। এ জন্য ৩ কোটি শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ছাড়ে কোম্পানিটি। প্রসপেক্টাসে উত্তোলিত অর্থ ভবন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক স্থাপনা, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি কেনা এবং আইপিও-সংক্রান্ত খরচে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অর্থ ব্যবহারের খাত পরিবর্তনের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য গোপন এবং জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রক্সি ভোট সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এর মধ্যেই সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সিএসডি ডোমিনেজ-৩’ নামে একটি ড্রেজার কেনা হয়। ২০২১ সালে কেনার পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছরেও ড্রেজারটি কোম্পানির ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার হয়নি এবং এ সম্পদ থেকে কোনো ব্যবসায়িক আয়ও হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ড্রেজার নিয়ে তথ্যের গরমিল

ড্রেজারটির প্রস্তুতকারক নিয়েও কোম্পানির দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি। কোম্পানির পক্ষ থেকে ড্রেজারটির প্রস্তুতকারক হিসেবে সুন্দরবন শিপবিল্ডার্সের নাম উল্লেখ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি লিখিতভাবে জানায়, তারা ওই ড্রেজার তৈরি করেনি।

ফলে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া ড্রেজারসংক্রান্ত তথ্যের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কারখানা বন্ধ, তথ্য গোপনের অভিযোগ

তদন্তে সাভারের আশুলিয়া ও নরসিংদীর পলাশে থাকা ডোমিনেজ স্টিলের দুটি কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার তথ্যও উঠে এসেছে। এসব তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিএসইসি। সংস্থাটি এটিকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের বিধান লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এ ছাড়া আশুলিয়ার কারখানার শেড সম্প্রসারণের নামে নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়ে আইপিওর অর্থ থেকে প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডোমিনেজ স্টিল ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানি। ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে দশমিক ০২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬১ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে