আয়ের বড় অংশই যাচ্ছে সুদে, নগদ সংকটে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
ব্যবসায় আয় ও সম্পদ বাড়লেও আর্থিক চাপ থেকে বের হতে পারছে না দেশের ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। ২০২৫-২৬ হিসাববছরের প্রথম নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে কোম্পানিটির ঋণের বোঝা, সুদ ব্যয়, বকেয়া কর এবং নগদ অর্থের সংকট নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে একই সময়ে ঋণনির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সুদের খরচ। ফলে ব্যবসা থেকে আয় বাড়লেও তার বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে আর্থিক ব্যয় মেটাতে।
৯৬৫ কোটি টাকার সম্পদ, নগদ মাত্র ২ কোটি
৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বিপুল এই সম্পদের বিপরীতে কোম্পানিটির হাতে নগদ ও ব্যাংক উদ্বৃত্ত রয়েছে মাত্র ২ কোটি ২১ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, মোট সম্পদের তুলনায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য নগদের পরিমাণ অত্যন্ত কম। বড় ধরনের স্বল্পমেয়াদি দায়, পরিচালন ব্যয় কিংবা হঠাৎ নগদ অর্থের প্রয়োজন তৈরি হলে কোম্পানিটির ওপর চাপ বাড়তে পারে।
কাগজে-কলমে কোম্পানিটির চলতি অনুপাত ৪ দশমিক ২৭। কিন্তু চলতি সম্পদের বড় অংশ নগদে নেই। ২৪১ কোটি ১৫ লাখ টাকার চলতি সম্পদের মধ্যে মজুদ পণ্য রয়েছে ৭৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, বাণিজ্যিক পাওনা ৮০ কোটি ৯৭ লাখ এবং অগ্রিম ও আমানত ৮৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।
ফলে এসব পাওনা আদায় ও মজুদ দ্রুত নগদে রূপান্তর করতে না পারলে কাগজে শক্তিশালী চলতি সম্পদের বিপরীতে বাস্তব নগদ সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঋণ বাড়ছে, লাফিয়ে বাড়ছে সুদ
কোম্পানিটির আর্থিক ঝুঁকির আরেকটি বড় দিক হলো ঋণ ও সুদের ব্যয় বৃদ্ধি। আগের বছরের একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
ঋণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আর্থিক ব্যয়ও। গত বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির আর্থিক ব্যয় ছিল ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আর্থিক ব্যয় বেড়েছে ১৭৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, এই সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি ১১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২২৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হলেও সুদ ও অন্যান্য আর্থিক ব্যয়ের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
করের বকেয়াও বাড়ছে
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে করের দায় নিয়েও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। নয় মাসের হিসাবে চলতি কর ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ব্যালান্স শিটে মোট চলতি কর পরিশোধযোগ্য বা বকেয়া করের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
তবে নগদ প্রবাহ বিবরণী অনুযায়ী, এ সময়ে আয়কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে বিদ্যমান করের দায় পরিশোধের চাপ ভবিষ্যতে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
বড় বিনিয়োগ, ফেরত আসার অপেক্ষায় নগদ
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ একই সময়ে বড় অঙ্কের মূলধনি বিনিয়োগও করেছে। প্রথম নয় মাসে নির্মাণাধীন প্রকল্প বা মূলধনি কাজ চলমান খাতে ২১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
নতুন এসব প্রকল্প থেকে দ্রুত আয় বা নগদ প্রবাহ তৈরি না হলে বিপুল মূলধনি ব্যয় কোম্পানিটির তারল্য পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ যখন মাত্র ২ কোটি ২১ লাখ টাকা, তখন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের অর্থায়ন ও চলতি দায় মেটানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিক্রি বাড়লেও বাড়ছে আর্থিক চাপ
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের সর্বশেষ নয় মাসের আর্থিক সূচকে একদিকে ব্যবসা সম্প্রসারণের চিত্র দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে একই সঙ্গে বাড়ছে আর্থিক চাপ।
বিক্রি বেড়েছে, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বেড়েছে ও আর্থিক ব্যয় বেড়েছে। একই সময়ে চলতি কর পরিশোধযোগ্য অর্থ বেড়েছে। বিপরীতে নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা থেকে সামান্য বেড়ে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা হলেও কোম্পানির মোট সম্পদের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।
সব মিলিয়ে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসার আকার বাড়ার পাশাপাশি ঋণ, সুদ ব্যয়, করের দায় এবং নগদ অর্থের মধ্যে একটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। ফলে বিক্রি বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিটি কতটা নগদ প্রবাহ তৈরি করতে পারছে এবং ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাচ্ছে—সেটিই সামনে আর্থিক স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
পাঠকের মতামত:
- আয়ের বড় অংশই যাচ্ছে সুদে, নগদ সংকটে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বাড়ছে
- ফাস ফাইন্যান্স: ৯৯.৯৯% ঋণ খেলাপি
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে আইসিবি ফার্স্ট সোনালী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড
- এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- শেয়ারবাজারে পতন
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক ও মার্জার-অ্যাকুইজিশনের বিধান চায় ডিবিএ
- ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘বিবিবি-’, স্থিতিশীল পূর্বাভাস
- মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশে প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম জরুরি
- কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে শেয়ারবাজার লাভবান হবে
- কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার: লাইসেন্স পাচ্ছে সাত ব্রোকার
- বিএসইসির ১৯ কর্মকর্তার পদোন্নতি
- ১০০ চিঠি নিয়ে ডিএসই-ডিবিএর আলোচনা
- শেয়ারবাজারে পতন
- দর পতনের শীর্ষে সায়হাম টেক্সটাইল
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স
- ব্লক মার্কেটে ২০ কোটি টাকার লেনদেন
- এনভয় টেক্সটাইলের শেয়োরে সর্বোচ্চ লেনদেন
- বে-মেয়াদি হচ্ছে রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড
- সায়হাম টেক্সটাইলের ক্রেডিট রেটিং ‘এএ-’
- জিডিপির আশাতীত প্রবৃদ্ধি, তবু শেয়ারবাজারে স্বস্তি নেই
- সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে সায়হাম কটন
- ব্লক মার্কেটে ১৫ কোটি টাকার লেনদেন
- শার্প ইন্ড্রাস্ট্রিজের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- প্রাইম ব্যাংকের ৯৪ লাখ শেয়ার মেয়েকে উপহার দিলেন উদ্যোক্তা
- সোমবার লেনদেনে ফিরেছে সিটি ব্যাংক
- সাউথইস্ট ব্যাংক পার্পেচ্যুয়াল বন্ডের কূপণ রেট ঘোষণা
- সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের কারখানা বন্ধ
- সুশাসনের আড়ালে ব্র্যাক ব্যাংকের ভয়াবহ ‘প্রতারণা’
- হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের সব কার্যক্রম স্থগিত
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড
- ব্লক মার্কেটে ১৬ কোটি টাকার লেনদেন
- শার্প ইন্ড্রাস্ট্রিজের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- নতুন ওয়েবসাইট চালু করল বিএসইসি
- শেয়ারবাজারে পতন
- মেঘনা কনডেন্সডের ৫০০ শেয়ার কিনবে ডিএসই
- রবিবার সিটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ
- আমরা নেটওয়ার্কের ১ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষনা
- লোকসানে নামল আমরা নেটওয়ার্ক
- মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতেই হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
- বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা
- গত সপ্তাহে ব্লক মার্কেটে ১৯৫ কোটি টাকার লেনদেন
- সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে সায়হাম টেক্সটাইল
- সাপ্তাহিক দর পতনের শীর্ষে শার্প ইন্ড্রাস্ট্রিজ
- সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে সায়হাম কটন
- ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে পিই রেশিও কমেছে
- দর পতনের শীর্ষে সায়হাম টেক্সটাইল
- দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স
- ব্লক মার্কেটে ১৩ কোটি টাকার লেনদেন
- রবিবার সিটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ
- মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- এবার বে-মেয়াদীতে রূপান্তর হচ্ছে ভ্যানগার্ড রূপালী ব্যাংক ফান্ড
- চার্টার্ড লাইফে মুনাফার চেয়ে অনিয়ম বেশি
- বেক্সিমকোর সম্পদ নিলামের খবর বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রেখে কেন?
- লেনদেনে ফিরেছে মাইডাস ফাইন্যান্স
- কমোডিটি লেনদেন শিখতে মুম্বাইয়ে সিএসইর ৯ ব্রোকার
- এসইএমএল শরিয়াহ ফান্ডকে বে-মেয়াদীতে রূপান্তরে এসজিএম আয়োজন
- দর পতনের শীর্ষে ফার্স্ট ফাইন্যান্স
- ব্লক মার্কেটে ৭৬ কোটি টাকার লেনদেন
- মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- ডেসকোর প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন
- আইটি কনসালটেন্টসে সচিব নিয়োগ
- শেয়ারবাজারে আতঙ্কের আগস্ট
- বিএসইসির ১৩ কর্মকর্তার পরিচালক পদে পদোন্নতি
- ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইতে ডেরিভেটিভস লেনদেনের সম্ভাবনা
- দর পতনের শীর্ষে ইয়াকিন পলিমার
- ব্লক মার্কেটে ৫৫ কোটি টাকার লেনদেন
- আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারে সর্বোচ্চ লেনদেন
- প্রিমিয়ার লিজিংয়ের এজিএমের তারিখ পরিবর্তন
- ন্যাশনাল হাউজিংয়ের ক্রেডিট রেটিং মান প্রকাশ
- এজিএম এর তারিখ জানিয়েছে বিআইএফসি
- লাভেলোর শেয়ার কারসাজি, জরিমানা ২ কোটি ২০ লাখ টাকা
- ধসের বাজারে চিনির শেয়ারে উল্লম্ফন
- ফনিক্স ফাইন্যান্সের তারল্য ঘাটতি ১,৬৮৮ কোটি টাকা
- আইপিওতে আসার আগে ২২৬% বোনাস : শেয়ার ইস্যু নিয়ে আছে খামখেয়ালিপনা
- শিবলী ও দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষায় আদালতের দারস্থ রাশেদ মাকসুদ
- বেস্ট হোল্ডিংসের প্রতি স্কয়ার ফিট নির্মাণে ব্যয় ১৮৫০১ টাকা : সী পার্লের হয়েছে ৪৭১৫ টাকা
- মার্জিনে ঢুকছে বেস্ট হোল্ডিংস
- অনিয়ম সত্ত্বেও শাস্তির পরিবর্তে বেস্ট হোল্ডিংসকে আরও অনৈতিক সুবিধা প্রদান
- তালিকাভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে সেরা হলেও শেয়ার দরে পিছিয়ে
- এবার বেস্ট হোল্ডিংসের আন্ডারসাবস্ক্রাইব এড়াতে বিএসইসির অনৈতিক সুবিধা
- সাড়ে ১২শ কোটি টাকা ঋণী এসএস স্টিলের চেয়ারম্যানের শত কোটি টাকার বিয়ের অনুষ্ঠান
- বিনিয়োগকারীদের নামে সংগঠন করে চাঁদাবাজি : ধরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ
- রবিবার মার্জিনে ঢুকছে বেস্ট হোল্ডিংস
- অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও অনুমোদন
- শেয়ারবাজারের স্বৈরাচার শিবলীর নানা অপকর্ম
- মেধার জন্য ছাত্রদের আন্দোলন : মেধাবী তাড়াতে নাহিদের ষড়যন্ত্র
- শেয়ারবাজারে আসার আগে ১ কোটি টাকার কোম্পানি হয়ে গেল ২৩ কোটি
- টপটেন লুজারের ৮০ শতাংশই বীমা কোম্পানি
শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর
- আয়ের বড় অংশই যাচ্ছে সুদে, নগদ সংকটে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বাড়ছে
- ফাস ফাইন্যান্স: ৯৯.৯৯% ঋণ খেলাপি














