ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের পুরো শেয়ারবাজারের চেয়েও বড় জিয়োর আইপিওতে আবেদন

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১০:১১:২৪
বাংলাদেশের পুরো শেয়ারবাজারের চেয়েও বড় জিয়োর আইপিওতে আবেদন

বাংলাদেশের পুরো শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন যেখানে ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ভারতের জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে আইপিওতে কয়েকশ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়াই যেখানে বড় ঘটনা, সেখানে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির এই সংস্থার শেয়ার পেতে বিনিয়োগকারীরা আবেদন করেছেন পুরো বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধনের চেয়েও বেশি অর্থের। তিন দিনের এই আইপিওতে আবেদন জমা পড়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি। এতে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে জিয়ো প্ল্যাটফর্মস।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়। শেষ দিনে শেয়ারের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে বরাদ্দের তুলনায় ২২ গুণ। অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের আবেদনসহ মোট আবেদনের অর্থমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের আবেদন ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। অন্য বিনিয়োগকারীদের আবেদন ছিল প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে তুলনা করলে এই অঙ্কের বিশালতা আরও স্পষ্ট হয়। দেশের পুরো শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন যেখানে ৬ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে একটি কোম্পানির আইপিওতেই তার চেয়ে বেশি অর্থের আবেদন জমা পড়েছে। তবে বাজার মূলধন ও আইপিওতে আবেদনের অর্থমূল্য এক ধরনের পরিমাপ নয়। বাজার মূলধন হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের সামগ্রিক বাজারমূল্য, আর আইপিওতে আবেদনের অর্থমূল্য হলো শেয়ার পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের চাওয়া অর্থের পরিমাণ।

জিয়ো প্ল্যাটফর্মস হলো ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের একটি শাখা সংস্থা। মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সাড়া ভারতের শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চাহিদার চিত্র তুলে ধরেছে। আগামী ২৮ অক্টোবর বুধবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

খুচরা বিনিয়োগকারীদের আবেদনও বরাদ্দের কয়েক গুণ

জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। বিপরীতে তাঁদের আবেদন জমা পড়ে ২৩ কোটির বেশি শেয়ারের জন্য। ফলে এই বিভাগে আবেদন জমা পড়ে বরাদ্দের ২ দশমিক ৭২ গুণ।

যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিভাগে আবেদন জমা পড়ে বরাদ্দের ৭০ দশমিক ৫৫ গুণ। অপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিভাগে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ গুণ। আর কোম্পানির কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে বরাদ্দের ২ দশমিক ৯৩ গুণ।

আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন বিনিয়োগকারীদের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ার জমা হওয়ার কথা।

আগের রেকর্ডও ছাড়াল জিয়ো

এর আগে ভারতের আইপিও বাজারে আবেদনসংখ্যার রেকর্ড গড়েছিল ওয়ারি এনার্জি। ২০২৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটির শেয়ার পেতে আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় ৯৭ লাখ ৩০ হাজার। জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের আইপিওতে আবেদনসংখ্যা সেই রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিয়োর আইপিওর প্রথম দিনে আবেদনকারীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে তা বেড়ে ৭৫ লাখে পৌঁছায়। শেষ দিনে আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর মোট আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি।

একটি কোম্পানির শেয়ার পেতে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর এমন অংশগ্রহণ ভারতের শেয়ারবাজারের ব্যাপ্তি ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। বিপরীতে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও আইপিওর আকার নিয়ে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, জিয়োর এই আইপিও সেই ব্যবধানকে নতুন করে সামনে এনেছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে