ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কেয়া কসমেটিকসের সংকটের অনুসন্ধানে ৪ সংস্থা

২০২৬ জুলাই ২৮ ০৮:৫৯:৪৩
কেয়া কসমেটিকসের সংকটের অনুসন্ধানে ৪ সংস্থা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা (৬৬ কোটি ডলার) নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, রপ্তানির অর্থ দেশে এলেও তা কোম্পানির ফরেন কারেন্সি (এফসি) অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। একই লেনদেনের বিপরীতে কোম্পানির নামে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে পরে তা টার্ম লোনে রূপান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যৌথ অনুসন্ধান চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় দুই দশকের রপ্তানি লেনদেনে কেয়া গ্রুপের প্রায় ৬৬ কোটি ডলার দেশে এলেও সংশ্লিষ্ট চার ব্যাংকের মাধ্যমে তা এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব রপ্তানি আয় বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি মনিটরিং সিস্টেমে রিয়ালাইজড হিসেবে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রসিড রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) ইস্যু করেছে।

কোম্পানির দাবি, এ অনিয়মের কারণে তাদের নামে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি হিসাব তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর।

এ ঘটনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখছে দুদক। রপ্তানি আয় যথাযথভাবে দেশে এসেছে কি না, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে রপ্তানি আয় রিয়ালাইজড দেখানোর পরও কেন ফোর্সড লোন বহাল রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাংকিং জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম বা অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না।

এদিকে এফআরসি রপ্তানি আয়, ফোর্সড লোন, এফডিবিপি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাই করে অনুসন্ধান শেষ করেছে। সংস্থাটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসিকে সুপারিশ পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বিএসইসির নিয়োগ দেওয়া বিশেষ নিরীক্ষকের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এফআরসি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে এসেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যে পক্ষের দায় প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কেয়া কসমেটিকসের এ ঘটনাটি শুধু একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক সংকট নয়; এটি রপ্তানি আয় ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং কার্যক্রম, নিরীক্ষা ও করপোরেট সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা কোম্পানির ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে