ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাভেলোর শেয়ার কারসাজি, জরিমানা ২ কোটি ২০ লাখ টাকা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ০৯:২৩:২৫
লাভেলোর শেয়ার কারসাজি, জরিমানা ২ কোটি ২০ লাখ টাকা

তালিকাভুক্ত তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনায় আট ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই ঘটনায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, তাঁর এক নিকটাত্মীয় ও একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারসাজির ঘটনায় চীনা উদ্যোক্তা ঝুয়াং লিফেং ও প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সকে সতর্ক করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিশন। তদন্তে ঝুয়াং লিফেংয়ের দুই প্রতিষ্ঠান লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে বিএসইসি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লাভেলোর শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজকে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার, সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টকে ৭ লাখ ৫০ হাজার, এইচএম রুবাইয়াতকে ৬ লাখ ৮২ হাজার, শায়লা আক্তারকে ৪ লাখ ৯৪ হাজার এবং রাজন কুমার সাহাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া তাসলিমা কাননকে ৩৩ লাখ, মো. মাসুদ রানাকে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার, আবু সাদাত মো. ফয়সালকে ৪৫ লাখ, আদিবা আজাদকে ১৪ লাখ ৮০ হাজার এবং মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনকে ৫৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

শেয়ারের দাম বেড়েছিল ২৫৭ শতাংশ

বিএসইসির তদন্তে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত লাভেলোর শেয়ার লেনদেনে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে ১৫ জুলাই তা বেড়ে ১০৬ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৭৬ টাকা ৬০ পয়সা বা প্রায় ২৫৭ শতাংশ।

বিএসইসির তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করে অবৈধভাবে মুনাফা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) ধারা, কমিশনের ২০১০ সালের ১৪ জুলাইয়ের নোটিফিকেশন এবং সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫(১) লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মামলা হবে কার বিরুদ্ধে

কারসাজির ঘটনায় লাভেলো আইসক্রিমের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিস হক, তাঁর নিকটাত্মীয় মো. জাহেদুল হক এবং পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তৌফিকা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে চীনা উদ্যোক্তা ঝুয়াং লিফেং ও প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ঝুয়াং লিফেং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাসরত একজন চীনা উদ্যোক্তা। পোশাক ও আর্থিক খাতেও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে।

তবে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, লাভেলোর শেয়ার কারসাজির অভিযোগে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এখনো মামলা করা হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন বিভাগ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

বাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কারসাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মনে করেন, শুধু জরিমানা করলে তা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। তবে অভিযোগের ধরন ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা করা হলে বাজারে অযথা আতঙ্ক তৈরির কারণ নেই।

তাঁর মতে, মামলা করার আগে কমিশনকে আইনি ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। সিদ্ধান্তটি যদি দুর্বল আইনি ভিত্তির ওপর নেওয়া হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট ‘কারসাজির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে’ শিরোনামে আগামীর সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছিলেন, গুরুতর ও উচ্চপ্রোফাইলের ঘটনায় প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলা করা হবে। লাভেলোর ঘটনায় কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে