ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএসআরএমে বিক্রি-মুনাফায় টানাপোড়েন, ঋণে চাপ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ০৮:৪৭:৪৩
বিএসআরএমে বিক্রি-মুনাফায় টানাপোড়েন, ঋণে চাপ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্পাত খাতের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিএসআরএমের দুই কোম্পানিতে আর্থিক চাপের ধরন ভিন্ন। বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম লিমিটেড)-এর বিক্রি বাড়লেও কমেছে মোট মুনাফার মার্জিন ও পরিচালন নগদ প্রবাহ। পাশাপাশি বেড়েছে বাণিজ্যিক পাওনা।

অন্যদিকে বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডে মূল চাপ ঋণনির্ভরতায়। কোম্পানিটির মোট ঋণ ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির চেয়েও বেশি। এর সঙ্গে বেড়েছে অর্থায়ন ব্যয়। তবে কোম্পানিটির মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহও বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বিএসআরএম লিমিটেডের পণ্য বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৩৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ হাজার ৮৮২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বিক্রি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

তবে বিক্রির বিপরীতে মোট মুনাফা কমেছে। প্রথম ৯ মাসে মোট মুনাফা হয়েছে ৭১২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৭ কোটি ৪ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সমাপ্ত পণ্যের গড় বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়ায় মোট মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে কাঁচামালের ব্যয় তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। ফলে বিক্রি বাড়লেও প্রতি ইউনিট পণ্যে আগের মতো মুনাফা করতে পারেনি কোম্পানিটি।

মুনাফার পাশাপাশি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহও কমেছে। প্রথম ৯ মাসে বিএসআরএম লিমিটেডের পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৭০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহও ২৯ দশমিক ১৬ টাকা থেকে কমে ২৩ দশমিক ৩৩ টাকা হয়েছে।

এদিকে ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির ট্রেড ও অন্যান্য পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে যা ছিল ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে পাওনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিক্রির অর্থ পাওনা হিসেবে আটকে থাকায় কার্যকরী মূলধন ও নগদ প্রবাহে চাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিএসআরএম স্টিলসের আর্থিক চিত্র ভিন্ন। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছিল ২ হাজার ৮৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর চলতি অংশ ২৪৭ কোটি ২ লাখ টাকা। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল ১ হাজার ৭৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফাইন্যান্স লিজ দায়সহ ঋণসদৃশ দায় ধরলে তা ৪ হাজার ৭৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিপরীতে কোম্পানিটির মোট ইকুইটি ৩ হাজার ৬৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঋণ ও ঋণসদৃশ দায় ইকুইটির চেয়ে বেশি।

স্বল্পমেয়াদি ঋণের বড় অংশই অ্যাকসেপ্টেড বিলস ফর পেমেন্ট। ১ হাজার ৭৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণের মধ্যে এ খাতে দায় রয়েছে ১ হাজার ৬০৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা প্রায় ৯২ শতাংশ। এক বছর আগে এই দায় ছিল ১ হাজার ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

ঋণের সঙ্গে বেড়েছে অর্থায়ন ব্যয়ও। প্রথম ৯ মাসে ফাইন্যান্স কস্ট হয়েছে ২৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ২০৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি।

তবে বিএসআরএম স্টিলসের মুনাফা ও নগদ প্রবাহে উন্নতি হয়েছে। প্রথম ৯ মাসে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪৩২ কোটি ৩ লাখ টাকা। শেয়ারপ্রতি আয় ৯ দশমিক ১২ টাকা থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৪৯ টাকা হয়েছে। পরিচালন নগদ প্রবাহও শেয়ারপ্রতি ২৩ দশমিক ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৮ দশমিক ৮৯ টাকা হয়েছে।

অর্থাৎ এক কোম্পানিতে বিক্রি বাড়লেও মার্জিন ও নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যটিতে মুনাফা বাড়লেও ঋণ ও অর্থায়ন ব্যয়ের বোঝা রয়ে গেছে। দুই কোম্পানির ক্ষেত্রেই তাই মুনাফার পাশাপাশি নগদ প্রবাহ, পাওনা এবং ঋণের কাঠামোও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

গত পাঁচ বছরে বিএসআরএম স্টিলসের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৯ দশমিক ৭৬ টাকা থেকে ২০ দশমিক ৫৭ টাকার মধ্যে ছিল। এ সময়ে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। অর্থাৎ মুনাফার একটি বড় অংশ ব্যবসায় রেখে দেওয়া হয়েছে। বিএসআরএম লিমিটেডের ক্ষেত্রেও মুনাফার একটি অংশ কোম্পানিতে রেখে ব্যবসা ও মূলধনের চাহিদা মেটানোর প্রবণতা রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে