ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

পদ্মা লাইফের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা নিরীক্ষকের

২০২৬ আগস্ট ০৬ ০৯:০৩:০৪
পদ্মা লাইফের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা নিরীক্ষকের

গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ তো দূরের কথা, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জন্য। কোম্পানিটির লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফান্ডে ৩১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার ঘাটতি (ঋণাত্মক ফান্ড) তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২৭১ কোটি ১১ লাখ টাকার বীমা দাবি আটকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কোম্পানির সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান পিনাকি অ্যান্ড কোম্পানির সিনিয়র পার্টনার পিনাকি দাস জানান, লাইফ ফান্ডে ৩১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার ঘাটতি কোম্পানিটির ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা আইন, ২০১০-এর ৭২ ধারা অনুযায়ী বীমা দাবি ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পদ্মা ইসলামী লাইফ ২৭১ কোটি ১১ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করতে পারেনি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব বকেয়া দাবির বিপরীতে কোনো সুদজনিত দায়ও সংরক্ষণ করা হয়নি, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল।

নিরীক্ষায় কোম্পানির আর্থিক হিসাবেও একাধিক অসঙ্গতি উঠে এসেছে। সাদাকা ফান্ড (পদ্মা ওয়েলফেয়ার ফান্ড) হিসেবে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দেখানো হলেও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে ব্যাংকে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা জমা থাকার দাবিও যাচাই করতে পারেননি নিরীক্ষক। কারণ, একটি ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট নিরীক্ষকদের দেওয়া হয়নি। এছাড়া কোম্পানির ১৬২টি ব্যাংক হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো লেনদেন হয়নি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের এসআরও অনুযায়ী জীবন বীমা দায়ের অ্যাকচুয়ারিয়াল তদন্ত ও মূল্যায়ন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-১২ অনুসারে ডেফার্ড ট্যাক্সের হিসাবও সংরক্ষণ করা হয়নি। পাশাপাশি গ্র্যাচুইটি ফান্ডের বার্ষিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও তা সম্পন্ন না করেই সংশ্লিষ্টদের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, যা আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতির বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার অবনতির আরেকটি কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েক বছর ধরেই প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে আর্থিক চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় ২০২১ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশও দিতে পারেনি কোম্পানিটি।

এসব অনিয়ম ও আর্থিক সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব আনোয়ার জাহিদ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দিয়েছেন। তাই অতীতের এসব বিষয়ে তার জানা নেই।

২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ২৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ শেয়ার।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে