ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বেসরকারি কোম্পানির জন্য খুলছে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের দুয়ার

২০২৬ আগস্ট ১১ ০৯:৩১:০২
বেসরকারি কোম্পানির জন্য খুলছে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের দুয়ার

দেশের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন বেসরকারি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে ডাইরেক্ট লিস্টিং (সরাসরি তালিকাভুক্তি) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই সুবিধা ভবিষ্যতে যোগ্য বেসরকারি কোম্পানির জন্যও উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভালো আর্থিক ভিত্তি, সুশাসন ও বড় ব্যবসায়িক পরিসরের কোম্পানিগুলো জটিল ও সময়সাপেক্ষ আইপিও প্রক্রিয়ার বাইরে বিকল্প উপায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, ডাইরেক্ট লিস্টিং বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা করে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। এরপর কমিশন সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো পর্যালোচনা ও প্রণয়নের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কমিশনার মো. নাফীজ আল তারিক, নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম, অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির এবং অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন। কমিটির সচিবালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী পরিচালক বিভাস ঘোষ।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, কমিটিকে আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন কাঠামোয় কোন ধরনের কোম্পানি ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য যোগ্য হবে, শেয়ারের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, কত শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে এবং বিদ্যমান ও নতুন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ডাইরেক্ট লিস্টিং হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কোনো কোম্পানি প্রচলিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়াই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই সুবিধা মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির জন্য সীমিত। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে যোগ্য বেসরকারি কোম্পানিও এ সুবিধা পেতে পারে।

এদিকে, স্টক এক্সচেঞ্জের ২০১৫ সালের লিস্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী বর্তমানে কোম্পানি তালিকাভুক্তি, ডাইরেক্ট লিস্টিং, ডিলিস্টিং ও পরিদর্শনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন ও বিধিমালার সঙ্গে বিদ্যমান রেগুলেশনসের সামঞ্জস্য আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় বিএসইসি পুরো লিস্টিং কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) বিদ্যমান বিধিমালার প্রয়োজনীয় সব সংশোধনী একত্র করে সমন্বিত প্রস্তাব জমা দিতে বলেছে কমিশন।

এর আগে ডিএসই কোম্পানি পরিদর্শনে কমিশনের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং চালু করা এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ও নিয়ম না মানা কোম্পানিকে ডিলিস্টিংয়ের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছিল। এসব প্রস্তাবকে সমন্বিত করে আরও আধুনিক, কার্যকর ও বিনিয়োগকারীবান্ধব লিস্টিং কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে বিএসইসি।

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে